কিভাবে blogger ব্লগে domain এড করতে হয় তার বিষয়ে জানতে হলে তোমাকে এই পোস্টটি পুরো প্রথম থেকে শেষ অবধি পড়তে হবে আর প্রতিটি টিপস খুব ভালো ভাবে ফলো করতে হবে নাহলে তোমার ব্লগের সাথে Custom ডোমেইন সেটআপ বা কানেক্ট করতে প্রবলেম হতে পারে।

আমি এই ব্লগের প্রথম পোস্ট তোমাদের সাথে শেয়ার করছি কিভাবে একটা ফ্রি .XYZ ডোমেইন কিনতে পারবে সেই ব্যাপারে এছাড়া ডোমেইন কি জানে এই লিংকটা ব্যাবহার করে পোস্টি একবার পড়তে পারেন। যদি অফারটি থাকে তাহলে তুমি হয়তো একটা ফ্রি .xyz ডোমেইন পেতে পারো। আর নাহলে তুমি Namecheap, Bigrock বা Godaddy থেকে অল্প টাকাতে .com .info .tech .site .org এছাড়া আরো অনেক ডোমেইন আছে যেগুলো তুমি কিনতে পারো।

তবে আমি গুগল ব্লগের ক্ষেত্রে তোমাদের কে রেকমেন্ড করবো .com ডোমেইন এক্সটেনশন টি কারণ এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই .com ডোমেইনটি কিনতে গালে তোমাকে ৫০০ থেকে ১০০০ ব্যায় হবে। তবে এই ডোমেইন নাম টি কিনলে তুমি তোমার ব্লগকে আরো আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল করে তুলতে পারবে এছাড়া একটি টপ লেভেল ডোমেইন তোমার ব্লগের সাথে যুক্ত করলে তোমার ব্লগটি গুগল সার্চইঞ্জিন তাড়াতাড়ি rank করতে পারবে।

BlogSpot ব্লগে জন্য Custom Domain কেন প্রয়োজন?

এর জন্য আমি ৫ টি specific কারণ তোমাদের সাথে শেয়ার করেছি, যেগুলো জানলে হয়তো তুমি ১০০% একটা টপ লেভেল ডোমেইন কিনতে চাইবে তোমার ব্লগের জন্য যেমন :

SEO করতে সুবিধা :

আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে তোমার ব্লগের .blogspot.com ডোমেইনের চেয়ে একটি টপ লেভেল custom ডোমেইন গুগল, bing, yahoo সার্চ ইঞ্জিনে বেশি প্রধান্য পাবে।এছাড়া গুগল তোমার .blogspot.com ব্লগ কে ক্রল করবে কিন্তু ইনডেক্স (index) করবে না।

কারণ আমরা গুগল ব্লগারে ফ্রি ব্লগ খোলার পর আমাদের সাইটের যে লিংক থাকে সেটা তে .blogspot.com থাকে যেমন https://blogshikun.blogspot.com তো কথা হলো যদি এরকম ডোমেইন নিয়ে তুমি প্রফেশনাল ভাবে কাজ করতে চাও তাহলে তোমার কষ্ট করে কাজ করাটা শুদু টাইম ব্যায় হবে। কারণ গুগল, bing, yahoo, এরকম যত সার্চইঞ্জিন আছে সেখনে তোমার ব্লগটি ততবেশি প্রধান্য পাবে না। যতটা custom ডোমেইন এ পাবে।

কারণ custom ডোমেইন তোমার ব্লগের সাথে যুক্ত করার পর তোমার ব্লগ এড্রেস টি https://benglablog.site এর মতো হয়ে যাবে এবং এটি গুগলে বেশি প্রধান্য পাবে সাথে তোমার ব্লগের visitor তোমার ব্লগকে মনে রাখবে এবং পরবর্তী সময় সে তোমার ডোমেইন নামটি সার্চ করে তোমার ব্লগে আবার ভিসিট করতে পারে।এছাড়া গুগল bing, yahoo সার্চইঞ্জিনে তোমার ব্লগ কে দ্রুত index করবে।

গুগল AdSense ইনকাম :

একটি সময় ছিল তুমি যে কোনো ধরণের ব্লগ বানিয়ে সেই ব্লগের উপর AdSence এর ads লাগিয়ে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারবে কোন টপ লেভেল ডোমেইন ছাড়া কিন্তু গুগল এখন সেই policy কে পরিবর্তন করে দিয়েছে কারণ প্রতিদিন প্রায় লক্ষ্য লক্ষ ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী হচ্ছে সেই কারণে টপ লেভেল ডোমেইন ছাড়া কোনো ব্লগে বা ওয়েবসাইট ads দেখানো হবে না। এমনকি couston টপ লেভেল ডোমেইন ছাড়া Adsence এর জন্য apply করলে তোমার ওয়েবসাইটকে অপ্প্রভ করবে না।

অ্যাফিলিয়েট প্রমোশন :

আপনি যদি আপনার blogger ব্লগে মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে অবশই তোমাকে একটা Custom ডোমেইন নিতে হবে কারণ বেশির ভাগ affiliate কোম্পানি তোমার blogspot ব্লগে approve দেবে না। আর যে affiliate কোম্পানি গুলো approve দেবে সেগুলো পেমেন্ট দেয়ার সময় প্রব্লেম করবে। এছাড়া তুমি নিজের কোনো পন্য বা course কে প্রমোর্ট করতে চাইলে তোমাকে অবশই একটা ভালো টপ লেভেল ডোমেইন নিতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্রমোশন :

তুমি যখন প্রথম ব্লগ খুলবে তখন তোমার ব্লগে ডাইরেক্ট গুগল, bing, বা yahoo, থেকে visitor আসবে না তো সেক্ষেত্রে তোমাকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেইসবুক, টুইটার, linkedin থেকে ভিসিটর নিয়ে আসতে হবে তোমার ব্লগে তারপর তুমি গুগল, bing, বা yahoo, থেকে ডিরেক্ট visitor আনতে পারবে। so তুমি যখন তোমার .blogspot.com ব্লগ কে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করলে তুমি বেশি প্রাধান্য পাবে না কারণ এখন মানুষ ভালোমানের ব্লগ না হলে ভিজিট করতে চাইনা। সেই কারণে অবশ্যই একটা custom ডোমেইন নেয়া উচিত।

প্রফেশনাল ব্লগ :

তুমি Blogspot.com ডোমেইন দিয়ে তোমার ব্লগে যত ভালো আর্টিকেলে লিখেন না কেন তোমার ব্লগ কে visitor দের কাছে অতোটা প্রধান্য পাবে না এবং ব্লগটি প্রফেশনাল বলে মনে হবে না। এছাড়া তোমার ব্লগকে ব্রান্ডিং করতে পারবে না custom ডোমেইন ছাড়া।

কি ধরনের Domain কিনবো?

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ অনেক টপ লেভেল ডোমেইন avliabil আছে এই ইন্টারনেট জগতে তার মধ্যে কিছু টপ লেভেল ডোমেইন নাম আছে যেগুলো আমি প্রথমে শেয়ার করেছি। So তুমি যদি ডোমেইন গুলো না পাও তাহলে অন্য কোনো ডোমেইন নিতে পারো কিন্তু ফ্রি ডোমেইন এর চক্করে পড়ো না। কারণ আমরা জানি ফ্রি মাল ভালো হয়না তো সেরকম ডোমেইনের ক্ষেত্রে একই। কারণ তুমি .tk .gl .ml এইরকম ফ্রি ডোমেইন ব্যাবহার করলে তুমি গুগল adsence approve পাবেন সাথে গুগলে ও rank করতে পারবে না তোমার ব্লগ কে.

এছাড়া একটি টপ লেভেল ডোমেইন কেনার সময় মাথায় রাখবেন ডোমেইন টি যেন ছোট বা unique হয়, সবাই যাতে সহজে মনে রাখতে পারে। ডোমেইন নামটি লেখার সময় ইংরেজি অক্ষরে লিখবে এবং ইংরেজি ছোট বড়ো অক্ষর বা কোনো গেপ ব্যাবহার করবে না এছাড়া অক্ষর গুলো ভালোকরে চেক করে নেবেন। ডোমেইন উদাহরণ benglablog.com bloggingx.com blogshikun.com যে গুলো সহজে মনে রাখা যায়।

কিভাবে Blogger ব্লগে Custom Domain যুক্ত করবেন?

ব্লগে ডোমেইন যুক্ত করার আগে অবশ্যই তোমাকে একটি ডোমেইন কিনতে হবে। ডোমেইনে কেনের জন্য অনেক প্রোভাইডার আছে তুমি তাদের কাছে থেকে ডোমেইন কিনতে পারো যেমন; Namecheap, Bigrock এছাড়া আরো অনেক। তবে আজ আমি তোমাদের সাথে Godaddy কে ব্যাবহার করে ডোমেইন সেটআপ করা শেখাবো কারণ ইতিপূর্বে আমি সেখানে অনেকগুলো ডোমেইন কিনে রেখেছি সেই কারণে। আপনি ও চাইলে Godaddy থেকে নিতে পারো তবে আমি রেকমেন্ড করবো Namecheap কে কারণ এটা Godaddy থেকে অনেক ভালো।

  1. ব্লগে ডোমেইন যুক্ত করার জন্য তোমাকে প্রথম তোমার ব্লগে dashboard টাকে ওপেন করতে হবে তারপর সেখানে setting অপশন টিতে ক্লিক করতে হবে। তারপর পাগটা একটু scroll করে Publishing অপশনে এসে Custom domain এই লেখাটির উপর ক্লিক করুন।
  1. Custom domain উপর ক্লিক করলে তোমার সামনে নিচে দেয়া ছবির মতো একটা বাক্স আসবে সেখানে www. দিয়ে তোমার ডোমেইন নামটি লিখুন তারপর Save বাটন টিতে ক্লিক করুন।
  1. Save বাটন টিতে ক্লিক করলে সেখানে দেখাবে এই ডোমেইনটি ভেরিফাই করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু কোনো প্রব্লেম নেয় কারণ তোমাকে শুদু একটা কাজ করতে হবে সেটি হলো তুমি যে ডোমেইন নামটি কিনেছো সেই ডোমেইনের DNS সেটিং এ গিয়ে দুটি রেকর্ড যুক্ত করতে হবে। যে রেকর্ড গুলো ওখানে দেওয়া থাকবে।
  1. DNS Record add করার জন্য তোমার ডোমেইন প্রোভাইডার একাউন্ট টি লগইন করতে হবে তারপর সেখানে যে DNS অপশনটি আছে সেখনে ক্লিক করুন।

আমার ক্ষেত্রে Godaddy কে ব্যাবহার করবো তো সেই কারনে আমি আমার Godaddy একাউন্ট টি লগইন করবো এবং সেখানে ডোমেইনের পশে যে DNS অপশনটি আছে সেখানে ক্লিক করবো।

domain dns add
  1. DNS অপশন টি তে Records অপশনের মধ্যো CNAME ও A Record গুলো যুক্ত করতে হবে। CNAME ও A Record যুক্ত করার জন্য তোমাকে প্রথম ADD বাটনে ক্লিক করে প্রথমে CNAME ডিটি add করুন তারপর A Record চারটি add করুন। যেগুলো নিচে দেয়া আছে।
  • 216.239.32.21
  • 216.239.34.21
  • 216.239.36.21
  • 216.239.38.21

CNAME দুটি add করার জন্য ADD বাটন টিতে ক্লিক করুন তারপর সেখনে Type এ CNAME সিলেক্ট করুন আর Host বক্সে www লিখুন এবং Points to বক্সে ghs.google.com লিখে save বাটনটি ক্লিক করে সেভ করুন। এরকম একই ভাবে দ্বিতীয় CNAME টি সেভ করুন। (এই CNAMEs দুটি তুমি ব্লগে ডোমেইন add করার সময় যে ভেরিফেকেশন fail দেখে ছিলে সেখনে পাবে। এই CNAME দুটি অন্য কোথও থেকে কপি করবে না।)

add cname recoard

আবার তোমাকে উপরে দেওয়া যে চারটি A Records আছে সে গুলো তোমাকে add করতে হবে। তার জন্য আবার ADD বাটনে ক্লিক করে Type এর জাগায় A অপশন টি সিলেক্ট করুন তারপর Host এ @ লিখুন এবং Points to তে 216.239.32.21 লিখে সেভ বাটনে ক্লিক করে সেভ করুন। এরকম একই ভাবে চারটি A Records সেভ করে নিন।

CNAME ও A Records গুলো add করা হয়ে গেলে পগতি একবার রিফ্রেশ করে নিন এবং নিচে দেওয়া ছবিটি দেখে মিলিয়ে নিন তোমার সব কিছু ঠিক এরকম আছে কি না যদি থাকে তাহলে তুমি ডোমেইন প্রোভাইডার থেকে logout করে বেরিয়ে আসতে পারো।

cname and a record add

উপরে বলা সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে তোমাকে ১-২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। কোনো কোনো সময় এটা ১০ -২০ মিনিটের মধ্যে ও কানেক্ট হয়ে যেতে পারে। তার জন্য তোমাকে ব্লগে ডেশবোর্ডে setting এর মধ্যে custom domain অপশনে ক্লিক করে www.yourdomain.com এরকম ভাবে তোমার ডোমেইন টি লিখে save বাটনে ক্লিক করুন যদি ডোমেইন টি কানেক্ট হয়ে যায় তাহলে আগের মতো প্রব্লেম show হবেনা। এবং তোমার ডোমেইনটি ব্লগের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে।

ডোমেইন নামটি ব্লগের সাথে add হয়ে গেলে তোমাকে Redirect domain ও HTTPS availability অপশন দুটি এনাবেল করে দিতে হবে তাহলে তোমার .blogspot.com ডোমিনের সমস্ত visitor custom ডোমেইনে প্রবেশে করবে আর HTTPS enable করলে তোমার সাইট টি secure হয়ে যাবে। That’s it.

domain connect successful

এগুলো সব কমপ্লিট হয়ে গেলে তুমি View Blog অপশন টিতে ক্লিক করে একবার চেক করে নিতে পারো তোমার ডোমেইন নামটি দিয়ে ব্লগ খুলছে কি না। আশা করি খুলবে যদি তুমি উপরে সমস্ত টিপস ভালোভাবে ফলো করো। না খুল্লে তুমি কিছুখন অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করলে খুলে যাবে। কারণ অনেক সময় Redirect ও HTTPS সেটআপ হতে কিছু টাইম নেয়।

আমাদের শেষ কথা :

আমরা custom ডোমেইন সেটআপ করা প্রক্রিয়া খুব সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য চেষ্টা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেল দেওয়া সমস্ত টিপস এবং স্ক্রিনশট গুলো তোমাকে ব্লগে custom ডোমেইন সেটআপ করতে সাহায্য করেছে? যদি তোমার উত্তর না হয়। তাহলে তুমি নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানতে পারো কোথায় তোমার প্রব্লেম হচ্ছে, আমরা সেটা solve করার পরামর্শ দেবো। আর যদি কোন প্রবলেম না হয় তাহলে আমি তোমাদের কাছে এই আর্টিকেলে টি বেশি করে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করবো।

পড়ুন – কিভাবে ফ্রি ব্লগ বানানো যায়?